(ক) কাঁচামালঃ
(১) লৌহ আকরিকঃ পূর্ব ও মধ্য ভারতের ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ, কেওনঝড়, ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সিংভূম এবং ছত্তিশগড় রাজ্যের দূর্গ, বাস্তার ও বায়লাডিলায় দেশের বিখ্যাত লৌহ খনিগুলো অবস্থিত।
(২) কয়লাঃ এই অঞ্চলের কাছেই অবস্থান করছে দামোদর-উপত্যকার ভারত বিখ্যাত কয়লাখনি অঞ্চল (রাণীগঞ্জ-ঝরিয়া)।
এই দুই অঞ্চল থেকে ভারতের মোট উত্তোলনের প্রায় ৮০% লৌহ আকরিক এবং ৯৭% কয়লা উত্তোলিত হয়। এছাড়া,
(৩) নিকটবর্তী অঞ্চলে এই শিল্পের প্রয়োজনীয় চুনাপাথর ও ডলেমাইট (ওড়িশার গাংপুর ও বীরমিত্রপুর) এবং ম্যাঙ্গানীজ, টাংস্টেন ও নিকেল (মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট, ছিন্দোওয়ারা, জব্বলপুর এবং ওড়িশার বোনাই, গাংপুর প্রভৃতি অঞ্চল) প্রচুর পরিমাণে মজুত থাকায় পূর্ব ও মধ্যভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওড়িশা ও মধ্যপ্রদেশে লৌহ-ইস্পাত শিল্প গড়ে উঠেছে।
(খ) জলঃ
দামোদর, সুবর্ণরেখা, ব্রাহ্মণী প্রভৃতি নদীর অফুরন্ত জলভাণ্ডার এই অঞ্চলে লৌহ-ইস্পাত শিল্পের অনুকূল ভৌগলিক পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।
(গ) বিদ্যুৎঃ
দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনায় তিলাইয়া, মাইথন, পাঞ্চেত এবং মহানদী পরিকল্পনায় হিরাকুঁদ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং বোকারো, চন্দ্রপুরা, দুর্গাপুর প্রভৃতি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ শক্তির যোগান পাওয়া যায়।
(ঘ) পরিবহণঃ
পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব, পূর্ব-মধ্য, দক্ষিণ-পূর্ব-মধ্য রেলপথের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও রাজ্য সড়কপথ ও বন্দরের নিকটস্থ অবস্থানের জন্য সহজেই খনি অঞ্চল থেকে কাঁচামাল আমদানির এবং ইস্পাত পরিবহণের সুবিধা রয়েছে।
(ঙ) শ্রমিকঃ
লৌহ-ইস্পাত শিল্পকার্য পরিচালনায় প্রচুর সুলভ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।
(চ) বাজারঃ
দুর্গাপুর, হলদিয়া, আসানসোল, জামশেদপুর, ঝরিয়া প্রভৃতি শিল্পাঞ্চলে ইস্পাতের ব্যাপক চাহিদা ও বিদেশের বাজারে রপ্তানির সুবিধা থাকায় ইস্পাত শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটেছে।
(ছ) মূলধনঃ
ভারত সরকার, জামশেদজি টাটা কোম্পানি, বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠান ইস্পাত শিল্পে যথেষ্ট মূলধন বিনিয়োগ করেছে।

