ভারতের জলসম্পদঃ ভারতের গুরুত্বপৃর্ণ নদনদীর গতিপথঃ
■ গঙ্গাঃ
গঙ্গা নদী ভারতের দীর্ঘতম নদী। এটি দৈর্ঘ্য ২,৫১০ কিলোমিটার, যার মধ্যে ২০৭১ কিলোমিটার ভারতের অন্তর্গত।
(ক) গঙ্গার উৎপত্তি ও পার্বত্য গতিঃ
গঙ্গা, কুমায়ুন-হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ গুহা থেকে ভাগীরথী নামে উৎপন্ন হয়ে প্রথমে পশ্চিমে এবং পরে দক্ষিণের সঙ্কীর্ণ গিরিখাতের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দেবপ্রয়াগে অলকানন্দার সঙ্গে মিলিত হয়েছে এবং এই দুই মিলিত স্রোত গঙ্গা নামে পরিচিত হয়েছে। গঙ্গোত্রী থেকে হরিদ্বার পর্যন্ত প্রায় ৩২০ কিলোমিটার গঙ্গার উচ্চ বা পার্বত্য গতি।
(খ) গঙ্গার মধ্যগতি এবং এই গতিতে গঙ্গার সঙ্গে মিলিত হওয়া বিভিন্ন উপনদীঃ
গঙ্গা, দেবপ্রয়াগ থেকে প্রথমে পশ্চিমে এবং পরে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে নাগটিব্বা ও শিবালিক পর্বতশ্রেণী অতিক্রম করে হরিদ্বারের কাছে সমভূমিতে অবতরণ করেছে এবং প্রথমে দক্ষিণে এবং পরে দক্ষিণ-পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ এবং বিহার রাজ্যের মধ্যে অবস্থিত গঙ্গার মধ্যগতিতে বহু উপনদী এসে মিশেছে। তাদের মধ্যে রামগঙ্গা, গোমতী, ঘর্ঘরা, গণ্ডক, বুড়ীগণ্ডক, কোশী প্রভৃতি নদীগুলো হল গঙ্গার বাম তীরস্থ উপনদী। গঙ্গার ডান তীরস্থ উপনদীগুলির মধ্যে যমুনা ও শোন উল্লেখযোগ্য।
গঙ্গার সমস্ত উপনদী ও শাখানদীগুলির মধ্যে যমুনা শ্রেষ্ঠ যমুনা কুমায়ুন হিমালয়ের যমুনোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে গঙ্গার প্রায় সমান্তরালে প্রবাহিত হয়ে এলাহাবাদের কাছে ডান তীরস্থ উপনদী হিসাবে মিলিত হয়েছে। যমুনার দৈর্ঘ্য প্রায় ১,৩০০ কিলোমিটার। এর ডান তীরস্থ উপনদীগুলির মধ্যে চম্বল, সিন্ধু, বেতোয়া ও কেন উল্লেখযোগ্য।
(গ) গঙ্গার নিম্নগতি এবং এই গতিতে গঙ্গার সঙ্গে মিলিত হওয়া বিভিন্ন উপনদীঃ
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার গিরিয়ার কাছে গঙ্গা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে ভাগীরথী ও পদ্মা নামে যথাক্রমে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়েছে। এখান থেকেই গঙ্গার নিম্নগতি ও বদ্বীপ প্রবাহের শুরু। ভাগীরথী ও পদ্মার মধ্যবর্তী ব-আকৃতির দ্বীপ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সন্দ্বীপ, যদিও এর অধিকাংশ স্থানই বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত। ভাগীরথীর গিরিয়া থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত গতিপথে ডান দিক থেকে অনেকগুলি উপনদী এসে মিশেছে। এদের মধ্যে বাঁশলাই ব্রাহ্মণী, দ্বারকা, ময়ূরাক্ষী, অজয়, দামোদর, রূপনারায়ণ, কংসাবতী ও রসুলপুর প্রধান। এই উপনদীগুলি রাজমহল ও ছোটনাগপুরের মালভূমি থেকে উৎপন্ন হয়েছে। ভাগীরথীর বাম তীরস্থ উপনদীগুলির মধ্যে জলঙ্গী, মাথাভাঙ্গা বা চূর্ণী প্রধান। এরা এককালে গঙ্গা বা পদ্মার শাখানদী ছিল, কারণ এরা বৃক্ষশাখার মত গঙ্গা থেকে বেরিয়ে এসে এক-একটি নদীর রূপ নিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে গঙ্গা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় নদীগুলিতে বর্ষাকাল ছাড়া অন্য সময় প্রায়ই জল থাকে না।
মুর্শিদাবাদ শহর থেকে হুগলী শহর পর্যন্ত গঙ্গার নাম ভাগীরথী এবং হুগলী শহর থেকে মোহনা পর্যন্ত নাম হুগলী নদী ভাগীরথী ব-দ্বীপের দক্ষিণে হুগলী নামে প্রবাহিত হয়ে। বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
গঙ্গার প্রবাহপথে সৃষ্টি হওয়া বিভিন্ন শহরঃ
উচ্চ, মধ্য ও নিম্নগতিতে সমগ্র পরিক্রমায় গঙ্গার মোট দৈর্ঘ্য ২,৫১০ কিলোমিটার এবং এর অববাহিকার আয়তন ৯,৫১,৬০০ বর্গ কিলোমিটার। হরিদ্বার থেকে মোহনা পর্যন্ত বিশাল অববাহিকাংশ গঙ্গার পলিসিঞ্চনে অত্যন্ত উর্বর এবং শস্য উৎপাদনে পৃথিবীতে এক উল্লেখযোগ্য স্থান অধিকার করে। তাই গঙ্গার উভয়তীরে প্রাচীনকাল থেকে বহু জনপদ গড়ে উঠেছে। তাদের মধ্যে হরিদ্বার, কানপুর, এলাহাবাদ, বারাণসী, পাটনা, মুঙ্গের, ভাগলপুর, নবদ্বীপ ও কলকাতা উল্লেখযোগ্য। যমুনা তীরের শহরগুলির মধ্যে দিল্লী, মথুরা ও আগ্রা প্রধান।
পরিশেষে উল্লেখযোগ্য যে, অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে ভাগীরথী-হুগলী নদীপথে গঙ্গার প্রধান স্রোত প্রবাহিত হয় না, ফলে নদীটি গ্রীষ্মকালে প্রায় শুকিয়ে যায়। বর্তমানে গঙ্গার ওপর ফরাক্কার কাছে ফরাক্কা ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ায় কাটা-খাল মারফত ভাগীরথীতে জল আসছে। আশা করা যায়, এই ব্যবস্থায় নদীটি অকালমৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাবে। মোহনা থেকে উত্তরে গঙ্গার প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার অংশ নৌ-চলাচল যোগ্য। নবদ্বীপ থেকে মোহনা পর্যন্ত অংশে ভাগীরথী-হুগলী নদীতে জোয়ার-ভাঁটা দেখা যায়।
■ সিন্ধু নদ (মোট দৈর্ঘ্য ২,৮৮০ কি.মি., এর মধ্যে ৭০৯ কি.মি. ভারতের অন্তর্গত)
(ক) উৎপত্তি ও প্রবাহ পথঃ
সিন্ধু নদ যদিও প্রায় ২,৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ, কিন্তু এর মাত্র ৭০৯ কিলোমিটার ভারতের অন্তর্গত। সিন্ধু নদ তিব্বতের মানস সরোবরের নিকটবর্তী সিন-কাবাব নামে জলধারা থেকে উৎপন্ন হয়ে উত্তর-পশ্চিমে প্রথমে তিব্বতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পরে কাশ্মীরে প্রবেশ করেছে। প্রায় ৫৬০ কিলোমিটার চলার পর কাশ্মীরের সীমানা ত্যাগ করে সিন্ধু দক্ষিণ-পশ্চিম বাহিনী হয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করেছে এবং প্রায় ২,২০০ কিলোমিটার অতিক্রম করে করাচীর দক্ষিণ-পূর্ব দিকে আরবসাগরে মিলিত হয়েছে।
(খ) উপনদী : শতদ্রু (শতলজ), বিপাশা (বিয়াস), ইরাবতী (রাভি), চন্দ্রভাগা, বিতস্তা (ঝিলাম) প্রভৃতি সিন্ধুর উপনদীগুলি ভারতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পাকিস্তানে গিয়ে সিন্ধু নদে গিয়ে মিশেছে। সিন্ধুর একমাত্র শিয়োক উপনদীটিই কাশ্মীরের মধ্যে সিন্ধুর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। যেহেতু এই নদীগুলি শুরুতে আপন আপন খাতে প্রবাহিত হয়ে পরিশেষে প্রধান নদীতে বিলীন হয়ে নিজেদের সত্তা হারিয়ে ফেলেছে, তাই এগুলিকে উপনদী বলে। শতদ্রু, সিন্ধুর সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য উপনদী এবং ভারতে এর দৈর্ঘ্য ১,০৬০ কিলোমিটার। পার্বত্য অংশে শতদ্রুর নদীখাত অত্যন্ত সঙ্কীর্ণ ও গভীর। শতদ্রুর তীরে ভাকরা ও নাঙ্গালে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে।
(গ) তীরবর্তী উল্লেখযোগ্য শহরঃ
বিপাশা নদীর তীরে মানালী, বিতস্তা নদীর তীরে শ্রীনগর, শতদ্রু নদীর তীরে ভাকরা প্রভৃতি হল সিন্ধুর বিভিন্ন উপনদীর তীরে অবস্থিত উল্লেখযোগ্য শহর।
■ ব্রহ্মপুত্র (মোট দৈর্ঘ্য ২,৫৮০ কি.মি.-: এর মধ্যে ৮৮৫ কি.মি. ভারতের অন্তর্গত) :
(ক) উৎস, প্রবাহ পথ ও উপনদী : ব্রহ্মপুত্র নদটি তিব্বতের মানস সরোবরের নিকটবর্তী চেমায়ুং-দুং হিমবাহ থেকে সাংপো নামে উৎপন্ন হয়ে হিমালয়ের সমান্তরালে প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার পূর্বে প্রবাহিত হয়ে নামচাবারওয়া শৃঙ্গের পূর্বে হিমালয়ের গভীর ও সঙ্কীর্ণ গিরিখাত অতিক্রম করে দিহং নামে ভারতে প্রবেশ করেছে।
সাদিয়ার কাছে দিহং, দিবংও লোহিত এর সঙ্গে মিলিত হয়ে ব্রহ্মপুত্র-নামে আসাম উপত্যকার মধ্য দিয়ে পশ্চিম বাহিনী হয়েছে। সাদিয়া থেকে ধুবড়ী পর্যন্ত এই ৭৫০ কিলোমিটার গতিপথে ব্রহ্মপুত্র মোটামুটি সমভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত। এই অংশের উল্লেখযোগ্য উপনদীগুলির মধ্যে সুবনসিরি, কামেং, মানস, বুড়ী-দিহাং, দিসাং, কপিলি ও ধানসিরি প্রধান।
ধুবড়ীর কিছু দূরে দক্ষিণ বাহিনী হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ যমুনা নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং পরিশেষে পদ্মা নদীতে পতিত হয়েছে।
ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় নদীখাতের ঢাল অত্যন্ত কম, ফলে উপনদী সঞ্চিত বিপুল পলিরাশি বহন করতে ব্রহ্মপুত্র নদের শক্তি নিঃশেষিত হয়ে যায় এবং নদীগর্ভ ভরাট হয়ে বহু চরের সৃষ্টি হয়। এই ধরনের একটি চর মাজুলী দ্বীপ। এই দ্বীপটির আয়তন প্রায় ১,২৬০ বর্গ কিলোমিটার এবং এটি পৃথিবীর বৃহত্তম নদীচর। নদীগর্ভের গভীরতা কমে যাওয়ায় বর্ষাকালে ব্রহ্মপুত্র নদ আপন খাতে অতিরিক্ত জল ধরে রাখতে পারে না। ফলে দু-কূল প্লাবিত হয়ে প্রতি বৎসরই ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয় এবং আশেপাশের অধিবাসীদের বিপগ্রস্ত করে। মোহনা থেকে ১,২৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নৌ-বহনযোগ্য। যদিও ব্রহ্মপুত্র নদ মোট ২,৫৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ, কিন্তু এর মাত্র ৮৮৫ কিলোমিটার ভারতের অন্তর্ভুক্ত।
(খ) উল্লেখ্যযোগ্য শহর : ডিব্ৰুগড়, তেজপুর, গৌহাটি, গোয়ালপাড়া, ধুবড়ী প্রভৃতি ব্রহ্মপুত্র নদী তীরের উল্লেখযোগ্য শহর।
■ নর্মদা নদী (দৈর্ঘ্য ১,৩১০ কি.মি.) :
নর্মদা মহাকাল পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ অমরকণ্টক (১,০৫৭ মিটার) থেকে উৎপন্ন হয়ে মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের মধ্যে দিয়ে বিন্ধ্য ও সাতপুরার সঙ্কীর্ণ গিরিখাত অতিক্রম করে ব্রোচের কাছে খাম্বাত (কাম্বে) উপসাগরে পড়েছে। কঠিন শিলাস্তর অতিক্রম করার সময় নর্মদা জলপ্রপাতের সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে জব্বলপুরের নিকটবর্তী ভোরঘাটের নর্মদা জলপ্রপাত উল্লেখযোগ্য। শ্বেত-পাথরের ওপর থেকে প্রায় ১৫ মিটার নীচে পতিত হয়ে নর্মদা এখানে একটি নয়নাভিরাম জলপ্রপাতের সৃষ্টি করেছে।
■ তাপ্তি নদী (দৈর্ঘ্য ৭২৪ কি.মি.) :
তাপ্তি নদী মহাদেব পর্বতের মূলতাই-এর কাছে প্রায় ৭৭০ মিটার উচ্চতা থেকে উৎপন্ন হয়ে মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের মধ্য দিয়ে সাতপুরা ও অজন্তার মধ্যবর্তী সঙ্কীর্ণ উপত্যকা পার হয়ে সুরাটের কাছে খাম্বাত (কাম্বে) উপসাগরে পড়েছে। তাপ্তির প্রধান উপনদী পুর্ণা।
■ মহানদী (দৈর্ঘ্য ৮৯০ কি.মি.) : মহানদী মধ্যপ্রদেশের রায়পুর জেলার দক্ষিণাংশের সিয়াওয়ার প্রায় ৪৪২ মিটার উচ্চতা থেকে উৎপন্ন হয়ে মধ্যপ্রদেশ ও ওড়িশার মধ্যে দিয়ে প্রায় ৮৯০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। মহানদীর গতিপথে কতকগুলি ছোট ছোট জলপ্রপাত আছে। এদের মধ্যে শিবনাথ, হাঁসদেও, ম্যাণ্ড, ইব, জোস্ক, টেল বিখ্যাত। পলি সঞ্চয় করে মহানদী মোহনায় ব-দ্বীপ সৃষ্টি করেছে।
■ গোদাবরী নদী (দক্ষিণ ভারতের দীর্ঘতম নদী: দৈর্ঘ্য ১,৪৬৫ কি.মি.) :
গোদাবরী দক্ষিণ ভারতের দীর্ঘতম নদী, এর দৈর্ঘ্য ১,৪৬৫ কিলোমিটার। নদীটি পশ্চিমঘাট পর্বতের ১,৬০০ মিটার উচ্চতা থেকে উৎপন্ন হয়ে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। এর বাম তীরস্থ উপনদীগুলির মধ্যে প্রংহিতা, ইন্দ্রাবতী ও শবরী প্রধান। প্রংহিতা উপনদীটি হল পেনগঙ্গা, ওয়ার্ধা ও বেনগঙ্গার মিলিত প্রবাহ। গোদাবরীর ডান তীরস্থ উপনদীগুলির মধ্যে মঞ্জীরা প্রধান। গোদাবরী পলি সঞ্চয় করে মোহনায় বিস্তীর্ণ ব-দ্বীপ সৃষ্টি করেছে।
■ কৃষ্ণা নদী (দৈর্ঘ্য ১,২৯০ কি.মি.) :
কৃষ্ণা নদীটি পশ্চিমঘাট পর্বতমালার মহাবালেশ্বরের কিছুটা উত্তরে প্রায় ১,৪০০ মিটার উচ্চতা থেকে উৎপন্ন হয়ে প্রথমে পূর্ব ও পরে দক্ষিণ-পূর্ব হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। কৃষ্ণার দৈর্ঘ্য প্রায় ১,২৯০ কিলোমিটার। কৃষ্ণার উপনদীগুলির মধ্যে সীমা, ভীমা, তুঙ্গভদ্রা, বেদবতী প্রধান। কৃষ্ণা পলি সঞ্চয় করে মোহনায় একটি ব-দ্বীপ সৃষ্টি করেছে।
■ কাবেরী নদী (দৈর্ঘ্য ৮০৫ কি.মি.):
কাবেরী দক্ষিণ ভারতের অধিবাসীদের কাছে গঙ্গার মত পবিত্র। কর্ণাটক জেলার ব্রহ্মগিরি পর্বতের ১,৩৪১ মিটার উচ্চতা থেকে উৎপন্ন হয়ে, পথিমধ্যে অনেকগুলি জলপ্রপাতের সৃষ্টি করে, পূর্ববাহিনী হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। কাবেরীর উপনদীগুলির মধ্যে হিমবতী, সিমসা ও ভবানী প্রধান। শিবসমুদ্রম্ কাবেরীর একটি বিখ্যাত জলপ্রপাত।


