চোখ - মানুষের জ্ঞানেন্দ্রিয়

চোখের বিভিন্ন অংশ ও তাদের সাধারণ ধারণা ও কাজ

অচ্ছোদপটল বা কর্নিয়া

চোখের বহিঃস্তর বা শ্বেতমণ্ডলের (Sclera) সম্মুখভাগের যে অংশটি স্বচ্ছ, রক্তনালিবিহীন এবং সামান্য উত্তল হয়ে আলোক রশ্মিকে চোখের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে সাহায্য করে, তাকে অচ্ছোদপটল বা কর্নিয়া বলে।

অবস্থান

কর্নিয়া চোখের সম্মুখভাগে অবস্থিত। চোখের বহিঃস্তর বা শ্বেতমণ্ডলের (Sclera) সামনের যে অংশটি কিছুটা উত্তল এবং স্বচ্ছ, সেটিই হলো কর্নিয়া।

গঠন বৈশিষ্ট্য

এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:

[ক] এটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও বর্ণহীন, যা আলোক রশ্মিকে চোখের ভেতরে প্রবেশ করতে সাহায্য করে।

[খ] কর্নিয়া বাইরের দিকে  খানিকটা উত্তল (Convex) প্রকৃতির।

[গ] এতে কোনো রক্তনালি থাকে না; তাই এটি প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরাসরি বাতাস থেকে সংগ্রহ করে।

কাজ

[ক] চোখের মোট প্রতিসরণ ক্ষমতার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই কর্নিয়া সম্পন্ন করে। এটি আলোক রশ্মিকে বাঁকিয়ে রেটিনার ওপর নিবদ্ধ করতে সাহায্য করে।

[খ] স্বচ্ছ হওয়ার কারণে এটি কোনো বাধা ছাড়াই আলোকে চোখের অভ্যন্তরে যেতে দেয়।

[গ] এটি চোখের ভেতরের কোমল অংশগুলোকে ধূলিকণা, জীবাণু এবং ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV rays) থেকে রক্ষা করে।

শ্বেতমণ্ডল বা স্ক্লেরা (Sclera)

অক্ষিগোলকের বহিঃস্তরের পেছনের দিকের প্রায় পাঁচ-ষষ্ঠাংশ (5/6) অংশ জুড়ে অবস্থিত তন্তুময়, শক্ত, অপচ্ছ ও সাদা রঙের যে প্রতিরক্ষামূলক আবরণটি চোখের আকৃতি বজায় রাখে, তাকে শ্বেতমণ্ডল বা স্ক্লেরা বলে।

অবস্থান

শ্বেতমণ্ডল অক্ষিগোলকের একেবারে বাইরের স্তরে অবস্থিত। এটি চোখের পেছনের দিকের অধিকাংশ অংশ দখল করে থাকে এবং সামনের দিকে স্বচ্ছ কর্নিয়ার সাথে যুক্ত থাকে।

গঠন বৈশিষ্ট্য

[ক] এটি একটি কঠিন ও ঘন তন্তুময় (Fibrous) স্তর। এটি মূলত কোলাজেন তন্তু এবং স্থিতিস্থাপক তন্তু (Elastic fibers) দ্বারা গঠিত।

[খ] এটি সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ (Opaque) এবং সাদা রঙের। এর মধ্য দিয়ে আলোক রশ্মি প্রবেশ করতে পারে না।

[গ] এতে রক্তবাহের উপস্থিতি অত্যন্ত কম, তবে এর উপরিভাগের স্তরে কিছু রক্তনালি থাকে।

কাজ

[ক] স্ক্লেরা শক্ত ও দৃঢ় হওয়ার কারণে এটি অক্ষিগোলকের নির্দিষ্ট গোলাকার আকৃতি বজায় রাখতে সাহায্য করে।

[খ] অক্ষিপেশিগুলো এর সাথে যুক্ত থাকায় এটি চোখের মণি বা অক্ষিগোলককে বিভিন্ন দিকে ঘোরাতে সাহায্য করে।

[গ] এটি অস্বচ্ছ হওয়ায় চোখের ভেতরে পার্শ্বদেশ থেকে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত আলো প্রবেশ করতে পারে না, ফলে চোখের ভেতরটি একটি অন্ধকার প্রকোষ্ঠের মতো কাজ করে যা স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠনে সহায়ক।

Newest
Previous
Next Post »

Popular Posts