বাংলা কবিতা: সিন্ধুতীরে



বাংলা কবিতা 
সিন্ধুতীরে 
রচনাধমী প্রশ্নোত্তর
প্রতিটি প্রশ্নের মান ৫
১. "কন্যারে ফেলিলো যথা"- কন্যার পরিচয় দাও।তাকে যেখানে ফেলা হয়েছিল সেই স্থানটি কিরূপ ছিল? 
উত্তর: 
সপ্তদশ শতকের আরাকান রাজসভার কবি সৈয়দ আলাউল রচিত "পদ্মাবতী" কাব্যের থেকে গৃহীত "সিন্ধুতীরে" নামক পদ্যাংশ থেকে আলোচ্য অংশটি উদ্ধৃত হয়েছে। 
কবিতার মুখ্য চরিত্র পদ্মাবতীকে এখানে "কন্যা" বলে সম্বোধন করা হয়েছে। পদ্মাবতী ছিলেন সিংহল রাজদুহিতা। ইতিহাস ও লোকশ্রুতি অনুসারে এই পদ্মাবতী পরবর্তীকালে চিতরের রানা রত্নসেনের দ্বিতীয় পত্নীর মর্যাদা লাভ করেন।
‘পাঠ্য’ অংশে সিংহল রাজকন্যা পদ্মাবতী ও তাঁর চার সখী সমুদ্রে পতিত হন। সমুদ্রের জলে ভেসে তাঁরা যে নগরীতে এসে পৌঁছান, সেই নগরীটি ভারী সুন্দর ও দুঃখ-দুর্দশাহীন। সেই স্থান যেন ন্যায়, ধর্ম ও সত্যের চির আবাসভূমি। 
এহেন স্থানে সমুদ্ররাজার কন্যা পদ্মা নিজহস্তে এক উদ্যান রচনা করেছেন, যেখানে সখীদের নিয়ে তাঁর দিন কেটে যায়। সেই উদ্যানে নানান মনোহর সুগন্ধযুক্ত ফুল গাছ এবং সুলক্ষণযুক্ত উদ্ভিদ শোভা পায়। উদ্যানের মধ্যবর্তী এক মণিমাণিক্যখচিত প্রাসাদে সমুদ্ররাজ ও তার কন্যা পদ্মা বাস করেন। 

১.২ ‘সিন্ধুতীরে রহিছে মাঞ্জস।'—মাঞ্জস কী? সে কী করল প্রসঙ্গ নির্দেশ করে তা নিজের ভাষায় লেখো।
উঃ
মাঞ্জস হল মান্দাস বা ভেলা।
সিংহল রাজকন্যা পদ্মাবতীকে বিবাহ করে চিতোর রাজ রত্নসেন দেশে ফিরছিলেন সমুদ্রপথে। সমুদ্র সেখানে ব্রাক্ষ্মণ-বেশ ধারণ করে নৃপতির কাছে দান চেয়ে হতাশ হন। ফলত সামুদ্রিক ঝড়-তুফানে রত্ন সেনের নৌকা ধ্বংস হয়ে যায়। রাজা কোনো ক্রমে একটি ভেলায় পদ্মাবতী ও তার চার সখীকে তুলে দিয়ে নিজে একটি তক্তায় চেপে অসহায়ভাবে ভাসতে থাকেন। ভেলাটি পঞ্চকন্যা সমেত একটি দ্বীপের ‘তীরভূমিতে এসে ঠেকে। পঞ্চকন্যাকে দেখতে পান সমুদ্রকন্যা পদ্মা (লক্ষ্মী)। আগুন জ্বেলে পঞ্চকন্যার গা-হাত পায়ে সেঁক দেয়।
তন্ত্র-মন্ত্র-ভেষজ ঔষধ দিয়ে পদ্মা ও তাঁর সখীরা বেশ কয়েক ঘণ্টা চিকিৎসা চালায়। তারপর তারা চোখ মেলে চাইল। এ ছাড়াও পদ্মা ঈশ্বরের কাছে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করল তিনি যেন ওই হতভাগিনীদের বাঁচান। নিরাকার নিরঞ্জনের কাছে সে বারংবার তাদের শীঘ্র উপশমের প্রার্থনা জানাল।
Previous
Next Post »

Popular Posts