ভারতের কৃষিঃ চা ও কফি চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ

 ভারতের কৃষিঃ চা ও কফি চাষের অনুকূল পরিবেশ



চা চাষের অনুকূল পরিবেশ

চা একরকম চিরহরিৎ বৃক্ষের শুকনো পাতা বিশেষ। মৃদু উত্তেজক পানীয় হিসেবে চা সারা বিশ্বে বিখ্যাত । পৃথিবীর মোট উৎপাদনের প্রায় ২৬% চা উৎপাদন করে চা উৎপাদন ও রপ্তানিতে বর্তমানে ভারত পৃথিবীতে প্রথম স্থান অধিকার করে।

চা উৎপাদনের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশঃ

(১) জলবায়ু : চা উপক্রান্তীয় মৌসুমী অঞ্চলের উচ্চভূমির ফসল। 

(ক) উত্তাপঃ 

চা চাষের জন্য আদর্শ তাপমাত্রা ২১ - ২৯° সেলসিয়াস হলেও, ১৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও চা চাষ করা যেতে পারে। 

(খ) বৃষ্টিপাতঃ বছরে ২০০-২৫০ সেন্টিমিটার গড় বৃষ্টিপাত চা চাষের পক্ষে আদর্শ। তবে প্রতি মাসে নিয়মিত বৃষ্টিপাত চা গাছের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। 

(গ) তুষারপাতঃ 

চা গাছ এক নাগাড়ে ১০/১২ দিন তুষারপাত সহ্য করতে পারলেও বেশী তুষারপাত চা গাছের ক্ষতি করে।

(২) ভূপ্রকৃতিঃ

পাহাড়ের জলনিকাশের সুবিধাযুক্ত ঢালু অংশ চা চাষের পক্ষে আদর্শ। তবে জলনিকাষী ব্যবস্থাযুক্ত ঈষৎ ঢালু সমভূমিতেও আজকাল চা করা হচ্ছে।

(৩) মৃত্তিকাঃ 

লৌহ মিশ্রিত উর্বর দো-আঁশ মাটি চা চাষের পক্ষে বিশেষ উপযোগী। তবে মাটিতে ফসফরাস ও পটাশের উপস্থিতি চায়ের সুগন্ধ বাড়ায়, (যেমন : দার্জিলিং-এর চা)।

(৪) ছায়া প্রদানকারী বৃক্ষঃ

প্রখর সূর্যতাপ থেকে চা গাছকে রক্ষা করার জন্য চা বাগানের মাঝে মাঝে ছায়া প্রদানকারী গাছ লাগাতে হয়।

(৫) সার প্রয়োগঃ

চা চাষে জমির উর্বরতা নষ্ট হয় বলে চা বাগানে পরিমিত মাত্রায় জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয়।

(৬) সুলভ শ্রমিকঃ

চা গাছের পরিচর্যা, আগাছা পরিষ্কার, নিড়ানো, নিয়মিত গাছ ছাঁটাই, গাছ থেকে পাতা তোলা, সঞ্চয়,

শুষ্ককরণ প্রভৃতি কাজের জন্য প্রচুর দক্ষ ও অভিজ্ঞ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে চা গাছ থেকে চা পাতা তোলার জন্য সাধারণত নারী শ্রমিকদের কাজে লাগানো হয়।

(৭) প্রচুর মূলধনঃ

চা বাগানের জমি কেনা, চা গাছ লাগানো এবং রক্ষণাবেক্ষণের প্রতিটি পর্যায়ে প্রচুর মূলধনের প্রয়োজন হয়।

(৮) পরিবহনঃ 

চায়ের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা থাকা জরুরী। 


কফি চাষের অনুকূল পরিবেশ

মৃদু উত্তেজক পানীয় হিসেবে কফির যথেষ্ট সুনাম আছে। কফি গাছের ফলকে গুঁড়ো করে জলে ভিজিয়ে এই পানীয় প্রস্তুত করা হয়। ভারতে রোপণাত্মক ফসল হিসাবে চায়ের পরই কফির স্থান। বর্তমানে কফি উৎপাদনে ভারত পৃথিবীতে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করে।

কফি চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশঃ

(০১) জলবায়ুঃ

উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু কফি চাষের পক্ষে বিশেষ উপযোগী। (ক) উত্তাপঃ

কফি চাষের জন্য সারা বছর ধরে উচ্চ উত্তাপ (২০°-৩০° সেলসিয়াস) প্রয়োজন, এর মধ্যে উঁচু জমিতে ২০-২৫° সেলসিয়াস এবং নীচু জমিতে ২০°-৩২° সেলসিয়াস তাপমাত্রা কফি চাষের পক্ষে বিশেষ উপযোগী। 

(খ) বৃষ্টিপাতঃ 

কফি চাষের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত (১৫০-২৫০ সেন্টিমিটার) প্রয়োজন। 

(গ) কুয়াশা ও আর্দ্রতাঃ 

কুয়াশা ও সামুদ্রিক আর্দ্রতা কফিগাছের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

(ঘ) তুষারপাত ও ঝড়ঃ 

তুষারপাত ও ঝড় কফি গাছের ক্ষতি করে।

ভূগোল

(২) মৃত্তিকাঃ 

লোহা, পটাশ ও নাইট্রোজেনযুক্ত উর্বর লাল দো-আঁশ মৃত্তিকা কফি চাষের পক্ষে বিশেষ উপযোগী।

(৩) জমির প্রকৃতিঃ 

জল নিকাশের সুবিধাযুক্ত পাহাড়ের ঢালু জমি কফি চাষের পক্ষে আদর্শ। দক্ষিণ ভারতের পাহাড়ী ঢালে এইজন্য কফি চাষ করা হয়।

(8) ছায়া প্রদানকারী গাছঃ 

সরাসরি সূর্য কিরণ কফি গাছের ক্ষতি করে বলে, কফি ক্ষেতে কলা, ভুট্টা প্রভৃতি ছায়া প্রদানকারী গাছ লাগানো হয়।

(৫) সুলভ শ্রমিকঃ

কফি ক্ষেত তৈরী, চারা লাগানো, রক্ষণবেক্ষণ, কফিফল সংগ্রহ এবং গুঁড়ো কফি প্রস্তুতির বিভিন্ন পর্যায়ে প্রচুর দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।

(৬) মূলধনঃ

কফি বাগান কেনা, কফি ক্ষেত তৈরী, চারা লাগানো, কফি

গাছের রক্ষণাবেক্ষণ ও তৈরী কফি বিপননের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রচুর মূলধনের প্রয়োজন হয়।

(৭) পরিবহনঃ 

কফির দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা থাকা জরুরী। 


Previous
Next Post »

Popular Posts